হাজী শরীয়তুল্লাহ এর সংক্ষিপ্ত জীবনী এক নজরে জেনে নিন

হাজী শরীয়তুল্লাহ এর জন্ম সালঃ ১৭৮৬ সালে। জন্মস্থানঃ বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলার চর শামাইল বাহাদুর পুর গ্রামে।মৃত্যুঃ ১৮৩১ সালে। শরীয়তুল্লাহর জন্ম এক দরিদ্র তালুকদার পরিবারে। হাজী শরীয়তুল্লাহ ছিলেন ধর্মীয় সংস্কারক এবং ভারতবর্ষে সংঘটিত ফরায়েজি আন্দোলনের নেতা। তার জন্ম হয়েছিল মাদারিপুর জেলার চর শামাইল (বাহাদুরপুর) গ্রামে। তিনি শুধু ধর্মীয় সংস্কারক ছিলেন না বরং ইতিহাসে ফরায়েজী আন্দোলন নামে পরিচিত সে আন্দোলন পরিচালনা করেছিলেন হাজী শরীয়তুল্লাহ।

সেই আন্দোলন হল কৃষক, তাঁতি এং অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষকে ব্রিটিশ ও জমিদারদের শোষন ও নীপিড়ন থেকে মুক্ত করার আন্দোলন। ব্রিটিশ আমলে বাংলায় ইস্ট কোম্পানীর শাষন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে মুসলমান সমাজে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে চরম দুর্দশা নেমে আসে। কোম্পানি মুসলমানদেরকে সেনা বিভাগ, রাজস্ব বিভাগ ও অন্যান্য চাকরি থেকে বিতারিত করার ফলে অজস্র মুসলমান পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

নির্ধারিত খাজনা আদায় ছাড়াও জমিদার নায়েব, গোমস্তা, সরকারি কর্মচারীরা নানা ধরনের অত্যাচারের মাধ্যমে কৃষক সমাজকে পঙ্গু করে দেয়। ব্রিটিশ শাসন আমলে প্রজারা অধিকাংশ ছিল গরীব কৃষক। জামিদারগণ প্রজাদের ওপর অবৈধভাবে নানাপ্রকার কর ধার্য ও আদায় করত। ইংরেজরা ‘বাজেয়াপ্ত নীতি‘র দ্বারা কোটি কোটি টাকা মূল্যের নিস্কর জমি বাজেয়াপ্ত করে।

এতে বৃহত্তর ফরিদপুর তথা পূর্ব বাংলার অনেক সম্ভ্রান্ত পরিবার ধ্বংস হয় তেমনি অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে মুসলমানরা পিছিয়ে পড়ে এবং কুপ্রথা, অন্ধবিশ্বাস ও অনৈসলামিক কার্যক্রমে লিপ্ত হয়ে পড়ে। তাছা্ড়া নীলকরদের অমানুষিক অত্যাচারে নীলচাষীদের জীবন অতিষ্ট হযে ওঠে। নীলকররা চাষীদের জোরপূর্বক লীল চাষ করতে বাধ্য করত। ইংরেজ বিচারকদের পক্ষপাতিত্বের জন্য চাষীরা সুবিচার পেত না।

হাজী শরীয়তুল্লাহ মুসলমান সমাজের এ সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় অধ:পতন দেখে সেই ব্যক্তি পথম এগিয়ে এসেছিলেন ।
ইতিহাসের এই মহান বীর মক্কা শরীফে গমন করেন ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে এবং ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে সেখান থেকে বাংলায় ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি আরবের ওয়াহাবী আন্দোলনের আদলে ফরায়েজি আন্দোলন শুরু করেন।

তার ছেলে দুদু মিয়াও একজন ঐতিহাসিক যোদ্ধা। তিনি নীলকরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ব্রিটিশদের তাড়ানোতে ভূমিকা রেখেছিলেন। শরীয়তুল্লাহ’র নামানুসারে বাংলাদেশের শরিয়তপুর জেলার নামকরণ করা হয়েছে। এছাড়া হাজী শরীয়তউল্লাহ এর নামে মাদারিপুরের শিবচরে আড়িয়াল খাঁ নদের উপরে নির্মিত সেতুটির নাম করণ করা হয়েছে হাজী শরীয়তউল্লাহ সেতু ৷

আরো পড়ুনঃ ইমাম উদ্দিন আহমেদ এর সংক্ষিপ্ত জীবনী একনজরে দেখুন

  • Facebook
  • Twitter
  • Google+
  • Linkedin
  • Pinterest

2 Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This div height required for enabling the sticky sidebar