কিশমিশ ভেজানো পানি কেনো খাবেন? খেলে কি উপকার পাওয়া যায়?

/
/
/
433 Views

আমাদের দৈনিন্দন খাবার টেবিলে থাকে নানানরকমের সুস্বাদু খাবার। সেই খাবারের স্বাদ ও সৌন্দর্য বাড়াতে আমরা কিশমিশের ব্যবহার করে থাকি। এটি ব্যবহারের কথা কারও অজানা নয়। কিশমিশ আমাদের স্বাস্থ্যের জন্যও বেশ উপকারী। শুধু কিশমিশই আমাদের দেহের জন্য উপকারী এটি কিন্তু নয়, কিশমিশ ভেজানো পানিও বেশ উপকারী। কিশমিশ ভেজানো পানি খেলে লিভারে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া শুরু হয় যে কারণে শরীরে দ্রুত রক্ত পরিশোধন হতে থাকে। আপনি যদি এক সপ্তাহ খালি পেটে কিশমিশের পানি পান করেন, তাহলে পেট একদম পরিষ্কার হয়ে যাবে, পেটের গন্ডগোল থাকবে না সেইসঙ্গে ভরপুর শক্তি পাবেন। এছাড়া এটি হার্টকে ভালো রাখে।

যেভাবে খুব সহজেই কিশমিশ ভেজানো পানি তৈরি করবেন এক নজরে দেখে নিনঃ

এর জন্য লাগবে ২ কাপ পানি ও ১৫০ গ্রাম কিশমিশ। কিশমিশগুলোকে ভালো করে কয়েকবার ধুয়ে নিন। এরপর একটি পাত্রে দুই কাপ পানি দিয়ে রাতভর কিশমিশ ভিজিয়ে রাখুন। তারপর ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে ভেজানো কিশমিশ ছেকে নিয়ে হবে। তারপর ভেজানো পানিটা হালকা গরম করে নিয়ে হবে। কিশমিশ ভেজানো পানি খাওয়ার ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট অন্য কিছু খাবেন না।

কিশমিশের আরও কিছু উপকারিতা-

১। রক্তশূন্যতা দূর: আমাদের নানা কারণে রক্তে লৌহের পরিমাণ কমে যেতে পারে। রক্তে লৌহের পরিমাণ কম হলে দেখা দেয় নানা রকম অসুস্থতা যেমনঃ অবসাদ, দুর্বলতা, হতাশায় ভুগা, এমন চলতে থাকলে আস্তে আস্তে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও ব্যহত হতে পারে। কিশমিশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে লৌহ যা রক্তশূণ্যতার রোগীর জন্য খুব উপকারী। এটা এছাড়া শরীরে রক্ত ও লোহিত কণিকা তৈরি জন্য দরকার হয়ে থাকে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ও কপার, যা প্রচুর পরিমাণে রয়েছে কিশমিশে।

২। হাড় ভালো রাখে: আমাদের চারিপাশে অনেকে আছেন যারা অস্টিওপোরোসিস নামক হাড়ের রোগে ভুগে থাকেন। এই রোগ থেকে মুক্তি পেতে বোরন নামোক খনিজ পদার্থ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আর কিশমিশ হচ্ছে বোরন উৎপাদন করার অন্যতম উৎস। শরীর গঠনের জন্য বোরনে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম- যা মাসবদেহে হাড় গঠনের পাশাপাশি শরীরের টেসটোসটেরন এবং ইস্ট্রোজেনের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

৩। রক্ত পরিষ্কার করে: বিভিন্ন কারণে আমাদের শরীরের রক্ত দূষিত হয়ে যায়। এই রক্ত দূষিত হওয়াকে বলে অ্যাসিডোসিস। যা থেকে হতে পারে বিভিন্ন রকমের রোগ, যেমনঃ আরথ্রাইটিস, চামড়া রোগ, হৃদরোগ এবং ক্যান্সার ইত্যাদি। আর এই সকল উপাদানগুলো পাওয়া যাবে কিশমিশে। দুটি উপাদান ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাশিয়াম শরীরের ক্ষরীয়ভাব স্বাভাবিক করে।…

৪। চোখ ভালো রাখে: চোখ সুস্থ রাখতে এবং বৃদ্ধ বয়সে দৃষ্টিহীন হওয়া থেকে রক্ষা দিবে এই কিশমিশ। নিয়মিত কিশমিশ খেলে চোখের সমস্যা হওয়ার সম্ভবনা অনেকাংশে কমে যায়। চোখ ভালো রাখার পাশাপাশি কিশমিশে থাকা পলিফেনল উপাদান ক্ষতিকারক ফ্রি-রেডিকেলস ধ্বংস করে চোখকে বিভিন্ন রোগ থেকে আমাদেরকে প্রতিনিয়ত রক্ষা করে।

৫। স্মৃতিশক্তি বাড়ায়: কিশমিশে থাকে অধিক পরিমাণে বোরন। বোরন মানবদেহে মস্তিষ্কের খাদ্য হিসেবে কাজ করে। তাছাড়াও বোরন আরও বেশ কিছু উপকার করে থাকে, যেমনঃ মনোযোগ বৃদ্ধি, চোখের সঙ্গে হাতের সামঞ্জস্য বাড়ানো ও স্মৃতিশক্তি তীক্ষ্ণ ইত্যাদি। প্রতি একশ গ্রাম কিশমিশ থেকে বোরন পাওয়া যাবে ২.২ মিলি গ্রাম।

৬। রক্তচাপ কমায়: আমাদের দৈনিন্দন নানাবিধ ভুলের কারণে হতে পারে রক্তচাপ। এই অনাকাঙ্ক্ষিত রক্তচাপ যা মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে সেটিকে কমাতে সাহায্য করে কিশমিশ। এটি মূলত কাজ করে কিশমিশে থাকা পটাসিয়াম রক্তচাপ কমাতে। সাধারণত উচ্চ মাত্রার সোডিয়াম শরীরে থাকলে, রক্তচাপ বাড়ায়। কিশমিশ শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

আরও পড়ুনঃ ফরিদপুরবাসীকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন এনায়েত হোসেন লিটন

  • Facebook
  • Twitter
  • Google+
  • Linkedin
  • Pinterest

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This div height required for enabling the sticky sidebar