ফরিদপুরের অচিন বৃক্ষ নিয়ে কবি হুমায়ুন কবীরের কবিতা –

/
/
/
364 Views

অচিন বৃক্ষ

চতুষ্পার্শ্বে ঘনশ্যাম গাঁও, মাঝখানে চাঁপা বিল
বারোমাস তার থালুতে জলের – মাছ করে কিলবিল।
সে মাছের লোভে দূরগাঁও থেকে – কানাবক আসে ছুটে
কাদামাখা জলে চোখ বাঁকা করে – মাছ ধরে লুটেপুটে।

বকের চোখে চাষীরা পাড়ের – চেয়ে থাকে পলে পলে
আসছে শীতে কুয়াশা ফুঁড়ে – নামবে সেখানে দলে।
পেঁয়াজ রসুন রবি শস্যাদি – ফলিয়ে বিলের জলে
খুশি মনে তারা মিলবে মেলায় – “অচিন বৃক্ষ” তলে।

অচিন বৃক্ষ ! নামটি শুনে অবাক হয়েছো বুঝি
সে আবার কী ? কেমন বৃক্ষ, মনে মনে ফেরো খুঁজি।

চাঁপা বিল ঘেঁষে পুবের পাশে – দৈত্যের রূপ ধরে
দাঁড়িয়ে রয়েছে বিরাট আকার – বিঘে দুই ভুঁই ভরে।
বটের মতো দেখতে তবুও – বট নয় বুঝা যায়
পাকুড়ের মতো পাতার গড়ন – ভরে আছে সারা গায়।

কাণ্ড গাছের পাকুড়ের ন্যায়, ঝুরিগুলো বট মতো
ওপর থেকে ভূমিতে এসে – ছড়িয়েছে শত শত।
ছুঁচালো পাতা সবুজ রঙের, ডালপালা আঁকাবাঁকা
দূরের থেকে মনে হতে পারে – কালো মেঘে বুঝি ঢাকা।

বট নয় ঠিক পাকুড়ও তো নয়, গাছটি চেনে না কেউ
যুগ যুগ ধরে নামধাম নিয়ে – চলছে তর্ক ঢেউ।
লোকে বলে তারা এমনই দেখেছে – বহু বহুদিন ধরে
তাদের আগেও দাদা পরদাদা – ছিলেন ধাঁধার ঘোরে।

বয়স তাহার বাড়ে না মোটেও – আকার সাকারও তাই
জন্ম থেকেই দেখতে এমন – বুঝে আসে নাতো ছাই।

ঝড় তুফানে ডালপালা তার, পড়ে নাতো ভেঙে কিছু
এসব ভেবে মানত মেনে – দেয় কেউ কিছুমিছু।
পহেলা বোশেখে মেলা বসে সেই, অচিন গাছের তলে
উৎসবে মাতে ছেলেবুড়ো শত, লোকজন পড়ে ঢলে।

পল্লীকবি’র নানার গাঁয়ের, এই বৃক্ষটি ঘিরে
নানান রকম কথা উপকথা – ছড়িয়েছে ধীরে ধীরে।
কথা উপকথা যাই কিছু থাক – সকল মানুষই গ্রামে
এককথাতে গাছটিকে চেনে – “অচিন বৃক্ষ” নামে।

  • Facebook
  • Twitter
  • Google+
  • Linkedin
  • Pinterest

2 Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This div height required for enabling the sticky sidebar