বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর সংক্ষিপ্ত জীবনী একনজরে দেখুনঃ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর সংক্ষিপ্ত জীবনী একনজরে দেখুনঃ

জন্ম সালঃ ১৯২০ সালের ১৭ ই মার্চ

জন্মস্থানঃ গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ায়

মৃত্যুঃ ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগষ্ট

সংক্ষিপ্ত বিবরণঃ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ বৃহত্তর ফরিদপুরের বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ায় এক সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম শেখ লুৎফর রহমান এবং মায়ের নাম সায়েরা খাতুন। ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন। ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমদ্দিন আইন পরিষদে পূর্ব পাকিস্থানের জনগণ উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মেনে নেবে‘ বলে ঘোষণা দিলে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। শেখ মুজিব এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আন্দলনের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য কর্মতৎপরতা শুরু করেন। ২ মার্চ ভাষা প্রশ্নে আন্দোলনকে সংগঠিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ফজলুল হক মুসলিম হলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর প্রস্তাবক্রমে `সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ‘ গঠিত হয়। সংগ্রাম পরিষদ বাংলা ভাষা নিয়ে মুসলিম লীগের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ১১ মার্চ সহকর্মীদের সাথে সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভরত অবস্থায় গ্রেফতার হন। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারে সারা দেশে ছাত্রসমাজ প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। মুসলিম লীগ সরকার ছাত্রদের আন্দোলনের চাপে বঙ্গবন্ধুসহ গ্রেফতারকৃত ছাত্র নেতৃবৃন্দকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। বঙ্গবন্ধু ১৫ মার্চ মুক্তি লাভ করে। বঙ্গবন্ধু মক্তি লাভের পর ১৬ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ছাত্র জনতার সভার আয়োজন করা হয়। এই সভায় বঙ্গবন্ধু সভাপতিত্ব করেন। সভায় পুলিশ হামলা চালায়। পুলিশী হামলার প্রতিবাদে সভা থেকে বঙ্গবন্ধু ১৭ মার্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালনের আহ্বান জানান। ১ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরে কর্ডন প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন করার জন্য তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৪৯ সালের ২১ জানুয়ারি মুজিব করাগার থেকে মুক্তি পান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা তাদের দাবি-দাওয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে ধর্মঘট ঘোষণা করলে বঙ্গবন্ধু ধর্মঘটের প্রতি সমর্থন জানান। কর্মচারীদের এ আন্দোলনে নেতৃত্বে দেয়ার অভিযোগে ২৯ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অযৌক্তিকভাবে তাঁকে জরিমানা করে। তিনি এ অন্যায় নির্দেশ ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কৃত হন। ১৯ এপ্রিল উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট করার কারনে গ্রেফতার হন। ২৩ জুন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয় এবং জেলে থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু এ দলের যুগ্ন-সম্পাদক নির্বাচিত হন। জুলাই মাসের শেষের দিকে মুক্তি লাভ করেন। পাকিস্থানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের আগমন উপলক্ষ্যে আওয়ামী মুসলিম লীগ ভূখা মিছিল বের করে। এই মিছিলে নেতত্ব দেয়ার জন্য ১৪ অক্টোবর শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। এবারে তাঁকে প্রায় দু‘বছর পাঁচ মাস জেলে আটকে রাখা হয়। ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি খাজা নাজিমউদ্দিন ঘোষণা করেন `পাকিস্থানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু‘। এর প্রতিবাদে বন্দী থাকা অবস্থায় ২১ ফেব্রুয়ারিকে রাজবন্ধী মুক্তি এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি দিবস হিসেবে পালন করার জন্য বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের প্রতি আহবান জানান। ১৪ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু এ দাবিতে জেলখানায় অনশন শুরু করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্রসমাজ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করে। মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর শহীদ হন। বঙ্গবন্ধু জেলাখানা থেকে এক বিবৃতিতে ছাত্র মিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জনান। একটানা ১৩ দিন অনশন অব্যাহত রাখেন। জেলখানা থেকে আন্দোলকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার দায়ে তাঁকে ঢাকা জেল খানা থেকে ফরিদপুর জেলে সরিয়ে নেয়া হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেল থেকে তিনি মুক্তি লাভ করেন। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের রুপকার, স্বাধীনতা আন্দোলনের মহান নেতা ও স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে ৯ মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালী জাতিকে বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন জাতি হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করিয়ে দিয়েছে। তাঁর রাজনীতিক ইতিহাস এত বিশাল তা লিখে শেষ করা যাবে না। ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চের কালো রাতে যখন পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীরা ঢাকায় হত্যাযজ্ঞ শুরু করল তখন বঙ্গবন্ধু তাঁর ধানমন্ডির বাসাতেই ছিলেন স্ত্রী আর তিন সন্তানকে নিয়ে। তিনি সন্ধ্যার সময়ই খবর পেলেন যে পাকিস্থানী বাহিনীরা ঢাকায় আক্রমন করছে। তিনি ইচ্ছা করলে বাসা থেকে ওই সময়ে পালিয়ে বা চলে যেতে পারতেন। কিন্তু তিনি নিজের কথা না ভেবে দেশের কথা ভেবে কোথাও চলে যাননি। তিলি বলেছিলেন আমি আমার দেশের মানুষকে রেখে কি করে চলে যাব। আমি যুদ্ধ করে দেশকে মুক্ত করার জন্য বরং মৃত্যুকেই বেছে নেব। তিনি সেখান থেকে প্রতিরোধের আহবান জানালেন সবাইকে। তারপর রাতেই পাকিস্থানী সেনাবাহিনীরা তার বাড়ী ঘিরে ফেলল এবং মেশিনগানের গুলি চালিয়ে তার বসার ঘরের জানালা ঝাঝরা করে দেওয়া হয়েছিল। তিনি বীরের মত দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে এলেন এবং বাঘের মত হুংকার দিয়ে বললেন চালাও গুলি আমার বুকে কিন্ত আমার স্ত্রী-সন্তান আর দেশের মানুষকে হত্যা করো না । তখন সৈন্যরা খোলা বেয়োনেট হাতে চারদিক থেকে তাকে ঘিরে ফেলল। এরপর একজন অফিসার এগিয়ে এসে বললেন তোমরা মুজিবকে হত্যা কর না। এরপর পাকিস্থানী বাহিনীরা তাকে ধরে নিয়ে যায়। আর এভাবেই তিনি বাংগালী জাতির নায়ক থেকে মহানায়কে পরিনত হলেন। এই মহান নেতা বাংগালীকে শিখিয়ে গেলেন কিভাবে শত্রুদের সামনে শীর উচু করে থাকতে হয়। তাঁর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে বাংলার দামাল ছেলেরা সাহসের সাথে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করে। এরপর তিনি ১৯৭২ সালের ৮ ই জানুয়ারি পাকিস্থান থেকে মু্ক্তি লাভ করে দেশে ফিরে এসে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগষ্ট শত্রুদের হীন চক্রান্তে ঢাকায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে স্ব-পরিবারে শাহাদাত বরণ করেন। তিনি বাঙালি জাতির গৌরব।

  • Facebook
  • Twitter
  • Google+
  • Linkedin
  • Pinterest

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This div height required for enabling the sticky sidebar