বিচারপতি মোহাম্মদ ইব্রাহিম এর সংক্ষিপ্ত জীবনী একনজরে দেখুন

জন্ম সালঃ ১৮৯৪ সালে
জন্মস্থানঃ ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার বিষ্ণপুর গ্রামে
মৃত্যুঃ ১৯৬৬ সালের ১৩ নভেম্বর

সংক্ষিপ্ত বিবরণঃ
বিচারপতি মোহাম্মদ ইব্রাহিমের জন্ম ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামে ১৮৯৪ সালে। তিনি ছিলেন আইনজ্ঞ ও রাজনীতিবিদ। বরিশাল জিলা স্কুল থেকে ১৯১৪ সালে ম্যাট্রিক, ১৯১৬ সালে ঢাকা কলেজ থেকে আইএ ও ১৯১৮ সালে একই কলেজ থেকে ইংরেজিতে বিএ (অনার্স) পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে এমএ কোর্স সমাপ্ত করেন।
১৯২০ সালে ঐতিহাসিক অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণ এবং ব্রিটিশ সরকার পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বর্জনের জন্য কংগ্রেসের আহ্বানে সাড়া দিয়ে নাগপুর সম্মেলনে যোগদান করেন। এমএ পরীক্ষাও বর্জন করেছিলেন। ১৯২২ সালে ঢাকা ল কলেজ থেকে বিএল পাস করে প্রথমে ফরিদপুর, পরে ঢাকা বারে আইন পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। কিছুকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের অধ্যাপনা করেন। ১৯৫৬ সালে এই পদ থেকে অবসর গ্রহণের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। দেশে ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর প্রথমবারের মতো সামরিক আইন জারি হলে জেনারেল আইয়ুব খানের সামরিক সরকারের প্রথম কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আইনমন্ত্রী নিযুক্ত হন।
তবে সাংবিধানিক প্রশ্নে সরকারের সাথে মতবিরোধ ঘটায় ১৯৬২ সালের এপ্রিলে স্বেচ্ছায় মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করে মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে যোগ দেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে (২ জানুয়ারি ১৯৬৫) স্বৈরাচারী আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে কপের প্রার্থী এবং পাকিস্তানি জাতির পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর বোন ফাতেমা জিন্নাহর পক্ষে প্রচারকাজে অংশগ্রহণ করেন। শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলন চলাকালে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান অস্ত্র প্রয়োগের ভয় দেখালে তিনি এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিশেষ করে ১৯৬২ সালের অগণতান্ত্রিক সংবিধান, আইয়ুব সরকারের স্বৈরাচারী ও জনস্বার্থবিরোধী ভূমিকা এবং পূর্ববাংলার প্রতি বৈষম্যমূলক নীতির তীব্র প্রতিবাদ করেন। তার প্রতিবাদী কণ্ঠ ও বক্তিৃতা-বিবৃতি স্বাধিকার আন্দোলনকারীদের মনে প্রেরণা সৃষ্টি করেছিল। তিনি ১৯৬৬ সালের ১৩ নভেম্বর ঢাকায় ইন্তেকাল করেন। জাতীয় অধ্যাপক সুফিয়া আহমদ তার কন্যা।

  • Facebook
  • Twitter
  • Google+
  • Linkedin
  • Pinterest

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This div height required for enabling the sticky sidebar